“সময় থেমে থাকে না, কিন্তু কিছু কিছু স্থাপনা আজও দাঁড়িয়ে আছে অতীতের গল্প শোনানোর জন্য। খসে পড়া দেয়াল, ভাঙা ছাদ, আর নির্জন আঙিনা—সবকিছুতেই লুকিয়ে আছে এক রাজকীয় অধ্যায়ের স্মৃতি।
এমনই এক ভগ্নপ্রায় প্রাসাদ আজও টিকে আছে সময়ের সাক্ষী হয়ে যদুনাথ চৌধুরী জমিদার বাড়ি।
ঔপনিবেশিক যুগে নির্মিত এই বাড়িটি ছিল জমিদার যদুনাথ চৌধুরীর বাসস্থান। দৃঢ় ইট, চুন-সুরকি আর শৈল্পিক অলংকরণে নির্মিত এ প্রাসাদ একসময় গ্রামীণ জীবনের কেন্দ্রস্থল ছিল। এখানে চলত জমিদারি প্রথার প্রশাসন, জমি-খাজনা আদায়, আর হত গ্রামীণ আদালতের কার্যক্রম।
চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার বড়-য়া পাড়া গ্রামে অবস্থিত এই জমিদার বাড়িটি একসময় ছিল ঐশ্বর্য আর প্রভাবশালী জীবনযাত্রার প্রতীক। কিন্তু ১৯৫৭ সালে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হবার সাথে সাথেই হারিয়ে যেতে থাকে এই প্রাসাদের জৌলুশ। একে একে খালি হতে থাকে কক্ষগুলো, থেমে যায় জমিদার পরিবারের আভিজাত্যপূর্ণ জীবনধারা।
জমিদার বাড়ির স্মৃতিস্বরূপ এখন একটি দ্বিতল বিশিষ্ট ভবন ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এই দ্বিতল ভবনটিও এখন অনেকাংশ প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।এখনো এই জমিদার বাড়ির বংশধররা এখানে বসবাস করছেন। তবে জমিদার বাড়ির তৈরি করা সাবেক ভবনটি এখন বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় সবাই আলাদা-আলাদাভাবে বাড়ি তৈরি করে বসবাস করতেছেন।
তার জমিদারীর আওতায় রাউজান উপজেলার পশ্চিম রাউজান মৌজা, পূর্ব রাউজান মৌজা, কদলপুর মৌজা, উত্তর গুজরা মৌজা, গুহরা মৌজা, উনসত্তর পাড়া মৌজা, কেউটিয়া মৌজার প্রায় পাঁচশত বেয়াল্লিশ একর জমি ছিল। বর্তমানে বসতভিটা ছাড়া তেমন আর সম্পত্তি নেই।
যদুনাথ চৌধুরীর জমিদার বাড়ি কেবল একটি স্থাপনা নয়; এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি। জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হলেও এই বাড়ির ধ্বংসস্তূপ আমাদের মনে করিয়ে দেয় এক সময়ের শাসনব্যবস্থা, আভিজাত্য ও সমাজ কাঠামোর কথা।
সময়ের সাথে সাথে হয়তো একদিন এটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাবে, কিন্তু ইতিহাসে এর জায়গা চিরকাল অম্লান থাকবে।”






