রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ থামাতে শুধু অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়, বরং স্থায়ী শান্তিচুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বিশ্বাস করেন, দুই দেশের নেতাদের আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি সমাধান সম্ভব।
সোমবার ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউজে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। দেড় ঘণ্টা স্থায়ী সেই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি তাৎক্ষণিকভাবে সহিংসতা কমাতে সাহায্য করতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী শান্তিচুক্তি ছাড়া এই সংঘাত থামবে না।
তিনি বলেন, ‘এখানে আমরা যারা উপস্থিত আছি, তারা সবাই তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তির পথে পৌঁছানোর উপায় বলে মনে করি এবং সম্ভবত (রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে) এমনটা হতেও পারত; কিন্তু আপাতত তা হচ্ছে না।’
‘আর আমি জানি না যে এই অবস্থায় এটা (যুদ্ধবিরতি) প্রয়োজনীয় কি না। আমি নিজে যুদ্ধবিরতি পছন্দ করি। কারণ এর মাধ্যমে আপনি তাৎক্ষণিকভাবে হত্যা থামাতে পারেন; কিন্তু আমি এ-ও বিশ্বাস করি যে সবকিছুর শেষে আমাদের একটি টেকসই শান্তিচুক্তি প্রয়োজন যা স্থায়ীভাবে সহিংসতা বন্ধ করতে পারে। এটা খুবই সম্ভব এবং নিকট ভবিষ্যতেই এমন একটি চুক্তি হতে পারে।’
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন সুর শোনান জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক ম্যার্ৎস। তিনি মনে করেন, শান্তি আলোচনায় বসার আগে যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই যুদ্ধবিরতি চাই। আমি কল্পনাও করতে পারি না যে কোনো যুদ্ধবিরতি ছাড়া পরবর্তী বৈঠক শুরু হবে। এজন্য রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।’
ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠক শেষ হওয়ার পর যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপ্রধানসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। তার আগেই সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে উভয় নেতা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকগুলো ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।






