চট্টগ্রাম নগরের একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক এলাকা বকশিরহাটের ইতিহাস

চট্টগ্রাম নগরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক এলাকা— বকশিরহাট। সময়ের গা ঘেঁষে চলা এই হাট শুধু একটি বাজার নয়, বরং চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। বাণিজ্যের গন্ধ মাখা এই হাটে আজও জীবন্ত ইতিহাসের প্রতিধ্বনি শোনা যায়।

বকশিরহাট’ নামটির উৎপত্তি নিয়ে রয়েছে নানা জনশ্রুতি। কথিত আছে, মুঘল আমলে এখানে একজন প্রভাবশালী বকশি (সৈন্যদের বেতন দেওয়া কর্মকর্তা) বসবাস করতেন, যার অধীনে আশেপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পরিচালিত হতো। তিনিই এই হাট স্থাপন করেন সৈন্য ও সাধারণ মানুষের প্রয়োজন মেটাতে। কালক্রমে তার নামানুসারে এই জায়গার নাম হয় ‘বকশিরহাট’। কেউ কেউ বলেন, এই হাট প্রথমে ছিল সেনা সদস্যদের রসদ জোগানের কেন্দ্র, পরে তা সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

বকশিরহাট শুধু একটি বাজারই নয়, বরং এটি চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক বিকাশের অন্যতম প্রাচীন কেন্দ্র। ব্রিটিশ আমল, এমনকি তার আগেও এই হাট ছিল অঞ্চলভিত্তিক পণ্যবিনিময়ের অন্যতম কেন্দ্র। তখনকার দিনে চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বাঁশ, কাঠ, লাকড়ি, মাটির জিনিস— এসব এনে বিক্রি হতো বকশিরহাটে। ব্রিটিশ আমলে এখানে পাট ও চালের বড় আড়ত গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলে বকশিরহাট হয়ে ওঠে একটি শক্তিশালী পাইকারি বাজার।

বকশিরহাট কেবল একটি হাট নয়— এটি ইতিহাস, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির মিলনস্থল। শতবর্ষের বেশি সময় ধরে যে হাট মানুষের খাদ্য, পণ্য আর স্বপ্ন বহন করে চলেছে, তার প্রতিটি গলিতে লুকিয়ে আছে গল্প। একবার যারা এই হাটের ভেতরে হেঁটে যান, তারা বোঝেন— বকশিরহাট কেবল চট্টগ্রামের নয়, গোটা দেশের বাণিজ্যচিত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.