জৌলুস হারালেও ঐতিহ্য রয়েছে হালখাতার

বৈশাখ আসছে! বাঙালির প্রাণের উৎসব নববর্ষ কড়া নাড়ছে দুয়ারে। চারিদিকে যখন নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি, ঠিক তখনই বাংলার ব্যবসায়ী মহলে শুরু হয় আরেক ঐতিহ্যবাহী উৎসবের আয়োজন।

হ্যাঁ, বলছিলাম ‘হালখাতা’-র কথা। আপামর বাঙালির কাছে নববর্ষ যেমন প্রাণের উৎসব, তেমনই ব্যবসায়ীদের জন্য এই পহেলা বৈশাখ মানে নতুন হিসাবের খাতা খোলার দিন, পুরোনোকে বিদায় জানিয়ে নতুনের আবাহন।

হালখাতা – নামটা শুধু একটা শব্দ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের ব্যবসায়িক ঐতিহ্য, সততা আর সম্পর্কের উষ্ণতা।

আগেকার দিনে ব্যবসায়ীরা একটি মাত্র মোটা খাতায় ব্যবসায়িরা তাদের যাবতীয় হিসাব লিখে রাখতেন। এই খাতাটি বৈশাখের প্রথম দিন নতুন করে হালনাগাদ করা হতো। হিসাবের খাতা হালনাগাদ করার এ রীতি থেকেই উদ্ভব হয় হালখাতার। একসময় বাংলা নববর্ষের মূল উৎসব ছিলো হালখাতা। এ উপলক্ষে দোকানে দোকানে মিষ্টি বিতরন করা হতো। শোনা যায়, মোঘল সম্রাট আকবরের আমল থেকে পয়লা বৈশাখের উদযাপন শুরু হয়েছিল। সেই সময় থেকেই দোকানে ব্যবসার হিসেব করার জন্য হালখাতার প্রথা শুরু হয়। সেই থেকে আজও প্রতি বছর বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন দোকানে দোকানে হালখাতা উদযাপন করা হয়।

হাল’ এবং ‘খাতা’ শব্দসহযোগে গঠিত হয়েছে ‘হালখাতা’ শব্দটি। দুটোই আরবি শব্দ। হালখাতা বিশেষ্য পদ। হাল শব্দের অর্থ হলো নতুন। সাধারণভাবে হালখাতা হলো নববর্ষে নতুন হিসাব লেখার খাতা। নতুন খাতাটি সাধারণত লাল শালুতে মোড়ানো থাকে। হালখাতা হলো বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রচলিত একটি ঐতিহ্যবাহী প্রথা। এ দিনটিতে ব্যবসায়ীরা তাঁদের পুরোনো হিসাব হালনাগাদ করে নতুন হিসাব শুরু করেন। এ উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁদের নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানান।

বাংলা নববর্ষের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে ঐতিহ্যবাসী এই হালখাতা অনুষ্ঠান। বাঙালির ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এই হালখাতা। সমাজের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব পালনে আড়ম্বরতায় ভাটা পড়লেও তা আপন ঐতিহ্যে টিকে থাকবে স্বমহিমায়। কেননা হালখাতা যে বাঙালি বনেদি ব্যবসায়ীদের শিকড়ের সঙ্গে গাঁথা।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.