একটা সময় গান গাইতে গাইতে বৈঠা বেয়ে দিনাতিপাত করতেন কর্ণফুলী নদীর মাঝিরা। নৌকা এবং নদীর জল সেই অতীতের সাক্ষী হয়ে আছে। কালের পরিক্রমায় এবং প্রযুক্তির কল্যাণে বিলুপ্ত হয়েছে হরেক রকমের ঐতিহ্যবাহী নৌকা।
ডিঙি,বজরা,হাতে চালিত সাম্পানের যায়গায় এখন চোখে পড়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকা।ইঞ্জিন কেনার সামর্থ্য যাদের নেই শুধু তারাই বৈঠাচালিত নৌকায় যাত্রী পারাপার করেন। যার সংখ্যাও খুব কম।আগের নানা রঙের পালতোলা পরিবেশবান্ধব নৌকার যায়গায় এসেছে ইঞ্জিনের শব্দযুক্ত নৌকা-যা পরিচালনায় সহজ কিন্তু ঢেকে দিয়েছে নদীর ছলাৎ ছলাৎ কলধ্বনি।
নদীমাতৃক এই বাংলাদেশে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য নদী-খাল।একসময় নদীর বুক চিরে ভেসে বেড়াত অসংখ্য ছোট বড় নৌকা।মাঝির গলায় দূর থেকে ভেসে আসত সুরেলা গান।নদীতে বৈঠার আঘাতে সৃষ্ট কলধ্বনির সাথে মাঝির আঞ্চলিক গান এক অপার্থিব দৃশ্যের সৃষ্টি করত।যা আজ খুব একটা চোখে পড়ে না।
যাতায়াতের সুবিধার জন্য নদীপথের তুলনায় স্থলপথকে বেছে নিচ্ছেন অনেক যাত্রী।ফলে যাত্রী পারাপার করে মাঝিরা সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।তাই অনেক মাঝি নৌকা চালানো ছেড়ে এখন অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছেন।
চট্টগ্রামের অর্থনীতি,ইতিহাস,সাহিত্য এবং সংস্কৃতির সাথে নদী এবং নৌকার রয়েছে এক গভীর যোগসূত্র।নৌকা সেই সূত্রের প্রাণ।ঐতিহ্যবাহী নৌকাগুলোকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে না পারলেও এখনো যেসব নৌকা ভেসে বেড়ায় তা সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব।






