নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সাফ উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। রঙ্গশালার সবুজ গালিচায় নতুন ইতিহাস লেখার হাতছানি ছিলো ওদের সামনে। সাফের নতুন চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেই ইতিহাসে তুলির শেষ আঁচড় দিলো বাংলার বাঘিনীরা। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের মহারণে স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সেরার মুকুট মাথায় তুললো সাবিনা-কৃষ্ণারা।
সাফের এই টুর্নামেনেটের আগের পাঁচ আসরেই চ্যাম্পিয়ন দলটির নাম ভারত। এবার সেই ভারত বাদ সেমিফাইনাল থেকেই। ফাইনালের মহারণে স্বাগতিক নেপালের মুখোমুখি বাংলাদেশ। দুই দলের সামনেই সাফের নতুন চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস লেখার হাতছানি। নিজেদের মাঠে নেপালকে দর্শক বানিয়েই সেই ইতিহাস লিখলো সাবিনা-সানজিদারা।
ম্যাচের প্রথমার্ধ্বেই শামসুন্নাহার জুনিয়র আর কৃষ্ণা রানী সরকারের গোলে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধ্বে একটি গোল শোধ দিলেও ৩-১ গোলের পরাজয় নিয়েই পঞ্চমবারের মতো রানার্স আপ হয়েই সন্তুষ্ট হতে হয় হিমালয় কণ্যাদের।
ছাদ খোলা বাসে সংবর্ধনা দেবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়
সাফ চ্যাম্পিয়ন দলকে ছাদ খোলা বাসে সংবর্ধনা জানাবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। বিষয়টি নিশ্চিত করছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রমীলা দল আমাদের জন্য যে ফলাফল ও সাফল্য বয়ে এনেছে তা অবিস্মরণীয়। এটা বাংলাদেশের জন্য দারুণ এক গর্বের দিন। তারা বাংলাদেশকে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব এনে দিয়েছে।
দল ও দলের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে জানাচ্ছি আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের ফুটবলার সানজিদা আক্ষেপ করে বলেছিল যে হয়তো তাদের ছাদখোলা কোনো বাসে সংবর্ধনা দেয়া হবে না। কিন্তু তারপরও তারা দেশের জন্য শিরোপা জিততে চায়। তার এ আক্ষেপ আমরা ঘোচানোর চেষ্টা করছি।
আগামীকালের মধ্যেই একটি ছাদ খোলা বাসে ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে ইতোমধ্যেই যোগাযোগ করেছি। আমরা আশা করছি যে আগামীকালের মধ্যেই আমরা একটি ছাদখোলা বাসের ব্যবস্থা করে ফেলবো। এয়ারপোর্টে সংবর্ধনা দিয়ে ছাদখোলা বাসে করে আমরা তাদেরকে বাফুফে ভবনে নিয়ে যাবো’।

ইতিহাস গড়া সাফের সেরা সাবিনা
সাফের আসরের শ্রেষ্ঠত্ব! ২০০৩ সালের ছেলেদের সাফের পর যেন এই বাক্যটি যেন ভাবনারও অবান্তর। তবে দুঃসাহস দেখিয়েছে বাংলার মেয়েরা। শুধু স্বপ্নই দেখাননি সাবিনা-সানজিদারা, হিমালয়ের দেশে গিয়ে সাফের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় তুলেই ছেড়েছে বাংলার বাঘিনীরা। বাংলাদেশকে সাফের শিরোপা এনে দিতে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। তার ফলস্বরুপ পেয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার।
সাফের ট্রফি আর সেরা খেলোয়াড়ের পাশপাশি বাংলাদেশের অধিনায়কের হাতে উঠেছে টুর্নামেন্টের সেরা গোলদাতার গোল্ডেন বুটও। টুর্নামেন্টজুড়ে দুই হ্যাটট্রিকসহ করেছেন মোট ৮ গোল। শুধু যে গোল করেছেন তাই নয়, গোল করিয়েছেনও সতীর্থদের দিয়ে।
নেপাল কোচের পদত্যাগ
টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে ফাইনালে ওঠা, নিজেদের মাঠে খেলা, প্রায় ১৫ হাজার স্বাগতিক দর্শকের সমর্থন। তবুও পারলো না নেপাল। হিমালয় কণ্যাদের হারিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় তুলেছে বঙ্গললনারা। সাফের ফাইনালে বাংলাদেশের কাছে ৩-১ গোলের সেই হারের পরই নেপালের কোচের পদ থেকে সরিয়ে দাড়িয়েছেন কুমার থাপা।
ম্যাচের আগেও যেখানে সব পরিসংখ্যান ছিলো নেপালের পক্ষে, সেখানে ম্যাচশেষে ৩-১ গোলের হার মেনে নিতে পারেননি কুমার থাপাও। নেপালের মেয়েদের মতো কোচও যেন হারের বিষাদ সহ্য করতে পারেননি ডাগআউটে দাঁড়িয়ে। ম্যাচশেষের সংবাদ সম্মেলনে এসে হারের দায় কাঁধে নিয়েই পদত্যাগ করলেন কুমার থাপা।
নেপালের কোচের পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়ে কুমার থাপা বলেন, ‘আমি নেপাল জাতীয় নারী দলের কোচের পদ ছেড়ে দিচ্ছি। সাফল্য না পেলে কোনভাবেই এখানে পদ আঁকড়ে ধরে রাখা উচিত নয়।’






