কারো চোখে চশমা, কারো পরনে দামি বেল্ট। নানা অলংকার পড়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে র্যাম্পেও। না ওরা আপনার কল্পনার মানুষ নয়, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের বিড়াল! শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরের খুলশীতে বিড়াল প্রদর্শনীর এ আয়োজন করে বার্ডস অ্যান্ড পেট অ্যানিম্যাল ক্লিনিক। প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে র্যাম্প শোর সাথে সাথে বিনামূল্যে বিড়ালের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরামর্শ সেবাও দেওয়া হয়।
প্রদর্শনীতে গিয়ে দেখা যায়, আয়োজকদের ভুল প্রমাণিত করে বিড়াল দেখতে হাজির হয়েছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। লিও, এঞ্জেল, ভুতু, মিনি, আদর, পুষি, জোজো, টুকু, টাইগার নাম ধরে ডাকলেই ঘাড় ফিরিয়ে সাড়া দেয়। চোখ বড় বড় করে তাকায়। তা দেখে দর্শনার্থী, বিশেষ করে শিশুরা সরতেই চায় না বিড়ালের সামনে থেকে।
https://www.facebook.com/watch/?ref=search&v=820740972414248&external_log_id=09330276-1c55-4fc3-b7be-05a66bd59864&q=chittagong%20live
সিটি গেইট এলাকা থেকে নিজের বিড়াল ভুতুকে নিয়ে মেলায় এসেছেন ফাহমিদা চৌধুরী। তিনি বলেন, একটা অসুস্থ বিড়ালকে পালতে গিয়ে বিড়ালের প্রতি আলাদা ভালো লাগা তৈরি হয়ে যায়। এখন আমি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে অবহেলিত প্রাণীর তথ্য পেলে তাকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে আসি। চিকিৎসা করিয়ে ভালো লাগার কোনো বাসায় লালন-পালনের জন্য দিয়ে দিই। দিয়েই আমি চলে আসি না, নিয়মিত সেসব বিড়ালের কেমন যত্ন হয়, তার খবর রাখি। সময়ে-সময়ে সেসব বাসায় গিয়ে বিড়ালগুলোকে দেখেও আসি।’
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের আগেই বাড়ি রাঙালো আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পতাকায়
অ্যাঞ্জেল নামে এক আদুরে বিড়ালকে নিয়ে মেলায় এসেছিলেন লাইহা। তিনি জানান, স্বামী পায়েল করোনার সময় তাকে পাখি উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তবে পেট শপে গিয়ে তার ছোট একটি পারসিয়ান বিড়ালকে ভালো লেগে যায়। পায়েল পাখি কেনার সিদ্ধান্ত বাদ দিয়ে লাইহার জন্য দেড় মাস বয়সী পারসিয়ান জাতের বিড়াল কেনেন। এরপর থেকে বিড়ালের দেখাশোনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন লাইহা। বাচ্চা এখন বিভিন্ন জাতের ৫টি বিদেশি বেড়াল পালছেন লাইহা ।
প্রদর্শনীতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট ছোট টেবিলে প্রায় ৫০টি বিভিন্ন প্রজাতির বিড়ালসহ তাদের মালিকরা বসে আছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছেন বিড়ালপ্রেমীরা। কেউ কেউ বিড়ালগুলোকে ছুঁয়ে দেখছেন, কেউ কোলে নিয়ে আদর করছেন।
আরও পড়ুন: অত মজাদার লোক নই আমি: একেন বাবু
প্রদর্শনীতে নিয়ে আসা অনেক বিড়ালকে দেয়া হয় চিকিৎসাসেবাও। নিজের বিড়ালকে চিকিৎসা দেয়া এক দর্শনার্থী বলেন, আমার বাসায় বিড়াল আছে, কিন্তু আমি ঠিক যত্ন নিতে না পারায় প্রায় অসুস্থ হয়ে যায় তারা। এখানে এসে আমি উপস্থিত ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন পরামর্শ পেলাম কিছু ওষুধ ও নিয়ে নিলাম।
মূলত বিড়ালের প্রতি মানুষের ভালোবাসা বাড়াতে তাদের এ প্রদর্শনীর আয়োজন বলে জানান বার্ডস অ্যান্ড পেট অ্যানিম্যাল ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, আমরা বেশ সাড়া পেয়েছি আমাদের আয়োজনে। সামনে আরও বড় পরিসরে এ মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।






