ADVERTISEMENT

বই পড়ার মাধ্যমে সুস্থ সংস্কৃৃতির বিকাশ ঘটবে: জেলা প্রশাসক 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ৪ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা বই মেলার উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেছেন, বই মানুষের সর্বোত্তম বন্ধু। আগামী প্রজন্ম বই পড়ার কারিগর। আলোকিত মানুষ হতে হলে বই পড়ার কোন বিকল্প নেই। বই পড়ার মাধ্যমে সুস্থ সংস্কৃৃতির বিকাশ ঘটবে। আগামী প্রজন্ম বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে আসবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন, মহান স্বাধীনতা ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আজ ৩০ ডিসেম্বর ২০২০ ইংরেজি বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গনে আয়োজিত ৪ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা বই মেলার শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভা শেষে বেলুন উড়িয়ে ৪ দিনব্যাপী বই মেলার শুভ উদ্বোধন করেন ডিসি। এর পর বই মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন তিনি। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন বই মেলার আয়োজন করেন। আগামী ২ জানুয়ারী ২০২২ ইংরেজি রোববার বই মেলার সমাপ্তি ঘটবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, বই কিনি, বই পড়ি, সৃজনশীল চর্চা করি-এটাই হোক মেলার সার্থকতা। বই পড়ে মানুষ নিজের অবস্থানকে মজবুত করতে পারে। বই-ই মানুষের মান মর্যাদা বৃদ্ধি করতে পারে। জ্ঞান অর্জন করার মানুষের যে প্রয়াস তাতে বেশি বেশি করে বই পড়তে হবে। বই পড়িলে বই আলোকিত হই, না পড়িলে বই অন্ধকারে রই। বই পড়েই কেবল আলোকিত মানুষ হওয়া যায়। শিক্ষায় শিক্ষিত ও মেধা অর্জন করতে হলে বইকে নিত্য সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। লেখক যাদের উদ্দেশ্যে বই লেখেন তারাই যদি নিয়মিত বই পড়েন তাহলে সফলতা আসবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, জাতির জনকের স্বপ্ন ছিল সোনার দেশ গড়ার। সোনার দেশ গড়তে হলে সোনার মানুষ প্রয়োজন। বই পড়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস আমাদের নতুন প্রজন্ম যখন জানবে তখন তারা সোনার মানুষ হয়ে উঠবে। যুব সমাজকে মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখতে বই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে বই মেলার উদ্দেশ্যে হচ্ছে-জাতির শিক্ষার হার ও জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করা। বই পড়তে হবে এবং বই পড়ার জন্য মানুষের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি করাতে হবে। বইয়ের আলো সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে।

তারা আরও বলেন, আলোকিত শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার একমাত্র উপায় বই পড়া। যিনি যত বড় হয়েছেন তিনি তত বেশি বই পড়েছেন। গ্রন্থাগার গুলোতে বই পড়ার চর্চা বৃদ্ধি করতে হবে। বই কিনি, বই পড়ি, সৃজনশীল চর্চা করি-এটাই হোক মেলার সার্থকতা। এ মেলার সাথে মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে কুইজ প্রতিযোগিতা প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মু. মাহমুদ উল্লাহ মারুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা বই মেলার শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যেও মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ড. বদিউল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ আবু রায়হান দোলন, বিভাগীয় সরকারী গণ গ্রন্থাগারের উপ-পরিচালক এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান ও চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি মহিউদ্দিন শাহ আলম নিপু।

অনুষ্টানে পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটগণসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন। মেলা প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত চলবে। এছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্টান। মেলা ও অনুষ্টান সকলের জন্য উন্মক্ত।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.