ADVERTISEMENT

মিরসরাইয়ে ডাক্তার-নার্সদের অবহেলায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

মিরসরাই প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত ডাক্তার, নার্সের অবহেলায় ১৫ মাস বয়সী অভিজিৎ দাস নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার।

সোমবার (২০ ডিসেম্বর) সকালের দিকে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই শিশুর মৃত্যু হয়।

নিহত অভিজিৎ দাস, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের উত্তর দুর্গাপুর দাশপাড়া গ্রামের শ্রীচরণ দাসের ছেলে।

নিহতের পরিবার অভিযোগ করেন, গত দুই দিন আগে জ্বর ও ডাইরিয়া রোগে আক্রান্ত হলে অভিজিৎ কে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর থেকে সেবায় ছিলো সম্পন্ন গাফিলতি। শুধু কিছু ওষুধ লিখে দিতেন। ডাবের পানি আর ঔষুধ খাওয়াতে বলতেন। একবারের জন্যও ভালো করে দেখেননি শারীরিক অবস্থা।

তারা আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় নার্সদের সহযোগিতার জন্য ডাকলে আসবে বলে আসেনি। অভিজিৎয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের পক্ষে অসম্ভব হলে একবারের জন্যও পরামর্শ দেননি অন্য কোন হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য। ডাক্তার এবং নার্সের অবহেলায় মৃত্যু হয়েছে অভিজিৎয়ের।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার শাহেদার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনকারী ডাক্তার অসীম বড়ুয়া জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার শাহেদা আসলে উপজেলা ইউএনও মহোদয় এবং উপজেলা চেয়ারম্যান এর সাথে কথা বলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত রাতে দায়িত্ব পালনকারী ডাক্তার আলাউদ্দিন এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, গত রাতে শিশুটির এমন অবস্থা ছিলো না যে তাকে বাইরে রেফার করতে হবে। আমরা চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চটা দিয়ে। শিশুটির জ্বর, ডাইরিয়ার সাথে পানিশূন্যতা ছিলো তাই সেলাইন দিয়েছি। অবিভাবকদের অভিযোগ গুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা কারণ আমাদের যখন ডেকেছে আমরা সাড়া দিয়েছি।

ডিউটি পালনকারী নার্স জুলফিয়ারার সাথে কথা বললে তিনি জানান, শিশুর জ্বর বেড়ে যাওয়ায় নাফা সিরাফ খাওয়ানো হয়েছে। জ্বর কমতেছে না দেখে ডাক্তার কে দেখানোর পরামর্শ দিয়েছি। গত রাতে তারা পাওয়া রুটি খাওয়ানোর কারণে আজ সকালে বাচ্চার যখন সিরিয়াস অবস্থা শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় সিপিআর দেয়ার জন্য প্রসেসিং করতেছে তখন তার মুখ থেকে পাওয়া রুটির টুকরা বের হচ্ছিলো।

নার্সদের অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের এমন অভিযোগের দায়বার আমরা নিবো না। কারণ তারা যখন আমাদের ডেকেছেন তখন সাথে সাথে আমরা গিয়ে দেখেছি। আমাদের সব জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। চেক করলে সঠিকটা দেখতে পারবেন।

জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুর হোসেন মামুন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে শিশুটির পরিবার পরে অভিযোগ করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.