ADVERTISEMENT

প্রধানমন্ত্রীর সুদক্ষ নেতৃত্বে কোভিড মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি: চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য সচিব

চট্টগ্রাম নিউজ ডেস্ক :

কোভিডের মতো এত বড় অতি মহামারী বিগত ১০০ বছরে কেউ দেখেনি। করোনা কাউকেই করুণা করে না। কোভিভ-১৯ আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অনেকে আমাদের কাছ থেকে চিরতরে বিদায় নিয়েছে।

বৈশ্বিক অতিমারীর এ সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে দেশের ১৮কোটি মানুষের পাশে দাড়িঁয়েছেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে ডাক্তার-নার্স, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সকলে সমন্বিতভাবে কাজ করার কারণে আমরা কোভিড-১৯ অতিমারী মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি।’

৪ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে স্বাস্থ্য বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া।

সচিব বলেন, ‘অনেক উদার মনের প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার কারণে কোভিডের টিকা নিয়ে এখন আর কোন সমস্যা নেই। দেশের ৭ কোটি ১৩ লাখ মানুষকে টিকা প্রদান করা হয়েছে।

মজুদ রয়েছে আরও ২ কোটি, সিরিঞ্জ মজুদ কোটি। কয়েকদিনের মধ্যে আসবে আরও ৩ কোটি ডোজ টিকা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে সারাদেশে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৭৫ লাখ ও নিয়মিত আরও ৫ লাখসহ মোট ৮০ লাখ ডোজ টিকা এক দিনে প্রয়োগ করা হয়েছে।’

‘চিকিৎসক-নার্স সংকটের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব বলেন, কোভিডকালীন সময়ে বিশেষ ব্যবস্থায় ৪ হাজার চিকিৎসক ও ১৪ হাজার মিডওয়াইফারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

যেখানে চিকিৎসক-নার্স সংকট রয়েছে সেখানে আগামী অল্পদিনের মধ্যে সেখানে তাদের পদায়নের মাধ্যমে সংকট নিরসন করা হবে। বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ১২ বছর সময়কালে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে।’

‘চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য সেবা, কোভিড চিকিৎসা ও ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সচিব হিসেবে যোগদানের পর দেশে এক ডোজ ভ্যাকসিনও ছিলনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্বল্প সময়ের মধ্যে চীন, রাশিয়া, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে চুক্তি করেছি।

এসব দেশ থেকে কোভ্যাক্স, অ্যাস্ট্রোজেনেকা, মর্ডানা, সিনোফার্মা ও ফাইজার টিকা এনে মানুষের মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিচ্ছি। প্রতি মাসে দুই থেকে আড়াই কোটি ডোজ টিকা আমরা পাচ্ছি। ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদেরকে টিকার আওতায় নিয়ে এসেছি।’

কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসাসেবা বিষয়ে লোকমান মিয়া বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব কমিউনিটি ক্লিনিকে ৩০ ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ৮০ শতাংশ রোগ ভালো হতে পারে। কমিউনিটি ক্লিনিকে ডেলিভারীসহ মা-শিশুর আধুনিক চিকিৎসা চলমান রয়েছে।’

‘আমাদের সবার রুট (শেকড়) গ্রাম থেকে। এ কারণে আমাদের উপজেলা ও কমিউনিটি ক্লিনিকে পদায়ন হলে মন খারাপ করা যাবে না। প্রত্যেক চিকিৎসক-নার্সকে নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান নিশ্চিতের মাধ্যমে সকল মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা-সেবা পৌঁছে দিতে হবে। দেশের চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়গুলো সরকার ও প্রশাসন সচেষ্ট থাকবে।’

চিকিৎসকেরা একটু আন্তরিক হলে এ চেয়ে দ্বিগুন সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। এ ব্যাপাওে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। জন্ম নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদেও দায়িত্ব অনেক বেশি। সে ব্যপারে আপনাদের যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, খাবারের ব্যাপারে আপনারা সচেতন করবেন। কারণ খাবারের কারণেই অনেক রোগ হয়। স্থানীয় চিকিৎসকদের কথা সবাই শুনে। এ কারণে আপনারা এ ব্যপারে ভূমিকা রাখতে পারেন।

সচিব বলেন, দেশে আমরা দ্রুত অক্সিজেনারেটর আমদানি করছি। এই মেশিন বাতাস থেকে প্রতি মিনিটে ৫০০ লিটার অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে। এই একটি মেশিন ১০০ জনকে অক্সিজেন দিতে সক্ষম। ইতোমধ্যে আমরা ৩টি অক্সিজেনারেটর আমদানি করছি। যেগুলো চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও গোপালগঞ্জে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১২৫ মেট্রিক টন থেকে বর্তমানে ৩৩০ মেট্রিক টন অক্সিজেন মজুদ রয়েছে।

আরও ৮০টি অক্সিজেনারেটর মেশিন বসলে প্রত্যেক বিভাগে ও জেলায় এটির সুবিধা পাবেন। দেশের সরকারী হাসপাতালগুলোতে ২ হাজার ২০০টি আইসিইউ বেড রয়েছে। করোনাকালীন এ সময়ে একটি রোগীও চিকিৎসার বাইরে ছিলনা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীরের সভাপতিত্বে ও কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মীর মুবারক হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ ইকবাল হোসেন, সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সানা শামীমুর রহমান ও রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম এহেছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেনা আক্তার, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রামের সভাপতি ডা. শেখ সফিউল আজম, বিএমএ সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুজিবুল হক খান ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আক্তার চৌধুরী।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

All about Onerush

Onerush: En Djupgående Granskning av Spelplattformen Vad är Onerush? Onerush

All about Onerush

Onerush: En Djupgående Granskning av Spelplattformen Vad är Onerush? Onerush

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.