চট্টগ্রাম

ব্লুটুথে বড় পরিবর্তন, ডেটা আদান-প্রদানের গতি বাড়ছে প্রায় চার গুণ

Chittagong Live
প্রকাশ : ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ওয়্যারলেস প্রযুক্তির জগতে নতুন সংযোজন আনছে ব্লুটুথ। ডিভাইসের মধ্যে দ্রুত ডেটা আদান-প্রদানের সুবিধা দিতে ব্লুটুথ হাই ডেটা থ্রুপুট (এইচডিটি) নামে নতুন ফিচার অনুমোদন করেছে ব্লুটুথ প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্লুটুথ স্পেশাল ইন্টারেস্ট গ্রুপ (এসআইজি)।

ব্লুটুথ কোর ৭.০-এর ঐচ্ছিক ফিচার হিসেবে যুক্ত হওয়া এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্লুটুথ লো এনার্জি (বিএলই) ডিভাইসের সর্বোচ্চ ডেটা স্থানান্তর গতি প্রতি সেকেন্ডে ২ মেগাবিট থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ৫ মেগাবিটে পৌঁছাবে। অর্থাৎ আগের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ গুণ বেশি গতিতে তথ্য আদান-প্রদান করা সম্ভব হবে।

প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই সুবিধা ওয়্যারলেস অডিও প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে উন্নতমানের অডিও, মাল্টি-চ্যানেল সাউন্ড এবং স্পেশাল অডিও অভিজ্ঞতা তৈরিতে বাড়তি ডেটা আদান-প্রদানের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শুধু অডিও নয়, দৈনন্দিন ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন প্রযুক্তির প্রভাব পড়বে। স্মার্টওয়াচের ফার্মওয়্যার আপডেট, ফিটনেস ডেটা সিঙ্ক এবং বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে বড় ফাইল আদান-প্রদানের মতো কাজ আগের চেয়ে দ্রুত সম্পন্ন করা যাবে।

এ ছাড়া বাড়তি ব্যান্ডউইথের কারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন এবং স্পেশাল কম্পিউটিং ডিভাইসের সঙ্গে ব্লুটুথের সমন্বয় আরও কার্যকর হতে পারে। এতে ডিভাইসগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানে সময় কম লাগবে এবং সামগ্রিক ব্যবহার অভিজ্ঞতা উন্নত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

নতুন প্রযুক্তির অন্যতম দিক হলো, এটি ব্লুটুথ লো এনার্জি ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে কাজ করবে। ফলে তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ খরচের সুবিধা বজায় রেখেই বাড়তি ডেটা স্থানান্তরের সক্ষমতা পাওয়া যাবে।

প্রযুক্তিটির সমর্থন নিয়ে প্রথম দিকের ডিভাইসগুলো ২০২৭ সালের শুরুর দিকে বাজারে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিতব্য কনজিউমার ইলেকট্রনিকস শো (সিইএস) কিংবা এর আগেই নতুন প্রযুক্তির সমর্থনযুক্ত ডিভাইসের ঘোষণা আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, ব্লুটুথ এইচডিটি ওয়্যারলেস সংযোগের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের স্মার্ট ডিভাইস, অডিও প্রযুক্তি ও এআইনির্ভর ব্যবস্থার জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, নির্মাতারা কত দ্রুত এই প্রযুক্তি নিজেদের ডিভাইসে যুক্ত করেন।